সিসি ডেস্ক: স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনে ৬ পৌরসভায় সমঝোতা হলেও ২৯ পৌরসভায় এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে। এসব পৌরসভায় মেয়র পদে এই দুই রাজনৈতিক মিত্রের সমন্বয় না হওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন জামায়াত প্রার্থীরা। জামায়াতের নির্বাচন সমন্বয়কারীদের তথ্যানুযায়ী এসব পৌরসভায় দলটির প্রার্থীরা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকায় মকবুল হোসেন, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোহাম্মদ হানিফ, বিরামপুরে ড. এনামুল হক, ফুলবাড়ীতে জয়নাল আবেদিন, গাইবান্ধায় একেএম ফেরদৌস আলম, রাজশাহীর গোদাগাড়িতে মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মন্ডুমালায় আনেসুর রহমান, কাঁটাখালীতে মেয়র মাজিদুর রহমান, নওহাটায় মশিউর রহমান, নাটোরের নলডাঙ্গায় নজরুল ইসলাম, চাঁপাই নবাবগঞ্জে নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জে জাফর আলী, নাচোলে ডা. রফিকুল ইসলাম, রহনপুরে মিজানুর রহমান, জয়পুরহাটে হাসিবুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ায় বকুল হোসেন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মোশাররফ হোসেন আকন্দ, খুলনার পাইকগাছায় আবদুল মজিদ গাজী, যশোরের চৌগাছায় কামাল আহমেদ, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে শরিফুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মিরপুরে আবুল হাশেম, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সাজেদুর রহমান, দর্শনায় আশকার আলী, সিলেটের কানাইঘাটে একেএম ওলিউল্লাহ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাশুক মিয়া, নোয়াখালীর বসুরহাটে মাওলানা মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তৌহিদুল হক চৌধুরী, রাজবাড়ীর পাংশায় কাজী ফরহাত জামিল এবং ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সৈয়দ নিয়ামুল হাসান মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় ৬ পৌরসভায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা না হওয়ায় ২৯ পৌরসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে দল দুটি। গত রোববার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ওই ৬ পৌরসভায় নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ায় জামায়াত। তবে এর বাইরে যেখানে দলীয় প্রার্থী নেই সেখানে বিএনপিকে সমর্থন দেবে জামায়াত এমন তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা। গত বছর উপজেলা নির্বাচনে ১১৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। এর মধ্যে মাত্র ৮টিতে জোটের সমর্থন পেলেও জয় পায় ৩৬টিতে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন জামায়াত সমর্থিত দিনাজপুরের হাকিমপুরে জেলা জামায়াতের সদস্য সুমন খন্দকার, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর আমীর আবুল কালাম আযাদ, রাজশাহীর চারঘাটে সাইফুল ইসলাম, নাটোরের সিংড়ায় জয়নাল আবেদিন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মিয়া ও নোয়াখালীর চাটখিলে মাওলানা ছাইফ উল্লাহ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এসব এলাকায় জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন করবে। আপিলে নীলফামারীর সৈয়দপুর ও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এ সব পৌরসভায় বিএনপিকে সমর্থন করবে জামায়াত। এর আগে আরও ৯ পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিতদের প্রার্থিতা বাতিল হয়। সেখানেও বিএনপির পক্ষে থাকবে জামায়াত। বগুড়ার কাহালুতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম বাদশা। ফলে এখানে এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে মাঠে আছে। তবে যশোরের চৌগাছায় জামায়াত প্রার্থী কামাল আহমেদ গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।